‘সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার আগে ১০ বার ভাবতে হবে’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গোলাম রাব্বানী নাদিমকে হত্যা করার মাধ্যমে যে অন্যায় করা হয়েছে, এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এতে পরবর্তীতে আর কোনো সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার ক্ষেত্রে ১০ বার ভাবতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুরে জেলার বকশীগঞ্জে হত্যার শিকার হওয়া সাংবাদিক নাদিমের গ্রামের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি।

কামাল উদ্দিন বলেন, ‘যারা সত্য সংবাদ নিয়ে কাজ করে, মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে- সেই সাংবাদিকদের আঘাত করার সাহস যেন কেউ না পায়। আগামীতে সব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ভাবতে হবে, সাংবাদিককে আক্রমণ করে আমি কি রেহাই পাব?’

সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দেশে উদাহরণ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিক নাদিমের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। পরে নাদিমের বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১০০ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে পারলেও সময় চাওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এ হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন (বুধবার) রাত ১০টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামালপুরের বকশিগঞ্জের পাথাটিয়ায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন নাদিম। স্থানীয় সাংবাদিক এবং পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার ঘটনায় সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী মনিরা বেগম।

শনিবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বকশীগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুকে প্রধান আসামি করে এবং ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরদিন তাকে আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.