বিএনপি কি সেন্টমার্টিন বিক্রির মুচলেকায় ক্ষমতায় আসতে চায়?

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কিছু দেশের তৎপরতা ও বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা ২০০১ সালে বিদেশিদের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। এবার কি সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়?

প্রধানমন্ত্রী বুধবার দুপুরে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনসহ বিভিন্ন নাশকতার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এসব কেন করছে? ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন কি তারা দেশ বিক্রি করবে? নাকি সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা। আমার হাত থেকে এদেশের কোনো সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ওই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও (২০০১ সালে) ক্ষমতায় থাকতে পারতাম’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতিকে রেজিম চেঞ্জের কৌশল (ক্ষমতা বদল) মন্তব্য করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংসদে বলেন, ‘তারা সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে (যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতের জোট) বাংলাদেশকে চায়। বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা সবকিছু করছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘এখনো যদি বলি যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই, আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটা হবে না। আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দেব না। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই।’

‘আর আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, কাউকে আক্রমণ করবে বা এ ধরনের কাজ আমরা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি’, স্পষ্ট জানিয়ে দেন সরকারপ্রধান।

তিনি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এমনকি মিয়ানমার থেকে যে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা এল, তারপরও তো মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করিনি। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। এরা যেন ফেরত যায়, সেজন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুরোধ করছি। ঝগড়া বা যুদ্ধ করতে চাইনি। কারণ আমরা জাতির পিতার পররাষ্ট্রনীতিতে চলছি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো যে, যারা ভোট চোর বলে, তারা তো ভোট ডাকাত। ডাকাতি করে যাদের উত্থান, যারা খুন করে মানুষ হত্যা করে, তারা এখন গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে।’

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন-তারিখ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সংবিধান আছে, নির্বাচন কমিশন আছে, তারা যখন ঘোষণা দেবে, তখন নির্বাচন হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করেন জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের কার্যক্রম, উন্নয়ন-অগ্রগতি বিবেচনায় জনগণ যদি ভোট দেয়, আছি, না দিলে নাই।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.