পুলিশ এবং আমলাদের ভয় দেখাচ্ছে বিএনপি

সরকারকে চাপে ফেলার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বিএনপি। এখন পুলিশ এবং আমলাদের নানাভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে তথ্য সংগ্রহ কমিটি বলে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তথ্য সংগ্রহ কমিটি সারাদেশে চিঠি দিয়ে বলেছে যে, যে সমস্ত পুলিশ এবং আমলারা বিএনপির বিরুদ্ধে কাজ করছে, সভা সমাবেশে বাধা দিচ্ছে এবং নির্যাতন নিপীড়ন করছে, তাদের তালিকা করে পাঠাতে হবে। ইতোমধ্যে ৪ হাজারের বেশি পুলিশের তালিকা বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতারা তথ্য সংগ্রহ কমিটির কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এটি দিয়ে বিএনপি ব্ল্যাকমেইল করতে চাচ্ছে।

বিএনপি নেতারা এরকম অন্তত ৫জন পুলিশ কর্মকর্তাকে টেলিফোন করেছেন। তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তারা দাবী করেছেন এবং তারা বলেছেন যে, সভা সমাবেশে যদি ভবিষ্যতে বাধা দেয়া হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন দূতাবাসে অভিযোগ করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের ভিসা বাতিল করা হবে। এছাড়াও বিএনপি নেতারা সেই সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছে যে, এ সরকার ক্ষমতায় থাকছে না। ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনে মধ্যে এটি নিয়ে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি।

পুলিশ প্রশাসনে মধ্যে প্রতিক্রিয়া না হলেও আমলাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং সচিবালয়ের উর্ধ্বতন বিভিন্ন কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যারা আওয়ামী পন্থী হিসেবে বিবেচিত। এই তালিকা ধরে ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের জেলা প্রশাসক এবং সচিবদের সঙ্গে বিএনপি নেতারা যোগাযোগ করছেন এবং তাদেরকে নিরপেক্ষ অবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা বলেছেন, এখন সরকারকে সহযোগিতা করলে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা ভিসা পাবে না। এমনকি এ সমস্ত আমলাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তাদেরকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে।

প্রশাসনের মধ্যে একটি বড় অংশই বিএনপি জামায়াতপন্থী। তারাই মূলত বিএনপির নেতৃবৃন্দকে তথ্য দিচ্ছে যে, কারা আওয়ামী লীগপন্থী এবং কারা আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, অন্তত ১০জন সচিবের নাম দেয়া হয়েছে যেসব সচিবরা এখনও আওয়ামীপন্থী হিসেবে বিবেচিত এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে আইনের আওতায় আনার হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মহল মনে করছে যে, এটি আসলে বিএনপির একটি কৌশল। প্রশাসনকে চাপে রাখার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

২৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে। এই ভিসা নীতিকে সামনে রেখেই এই ধরণের তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। তারা মনে করছে যে, এর ফলে বিএনপি অবাধে সভা সমাবেশ করবে। পুলিশ কোন বাধা দেবে না এবং প্রশাসনে মধ্যে যারা বিএনপিপন্থী আছে তারা আরও চাঙ্গা হবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা তথ্য উপাত্ত দিয়ে বিএনপিকে সহায়তা করবে। তবে পুলিশ প্রশাসনে মধ্যে যাদের পরিবার পরিজন বিদশে থাকেন, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং যারা বিভিন্ন রকম শান্তি মিশন করতে চান, তারা বিএনপির এই তৎপরতায় কিছুটা হলেও ভীত হয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে পুলিশ প্রশাসন এবং বেসামরিক প্রশাসন অনেকটাই পরপেক্ষ হতে বাধ্য হবে। সেই ব্যবস্থাই তারা করছেন।

সূত্র-বাংলা ইনসাইডর।

Leave A Reply

Your email address will not be published.