রামুর বাবা-ছেলের ইয়াবা কারবার, নিতেন নানান ছদ্মবেশ

ইয়াবার চালানসহ যাতে গ্রেপ্তার হতে না হয় এজন্য মহাসড়ক এড়িয়ে চলতেন মাদক কারবারি হাবিব উল্লাহ (৫০) ও তার ছেলে ছালাহ উদ্দিন (১৯)। কক্সবাজার থেকে নানা কৌশলে ইয়াবার চালান আনতেন ঢাকায়। এরপর তারা পাইকার কারবারিদের হাতে তুলে দিতেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি বাবা-ছেলের। শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর উত্তর বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে তাদের।

ডিএনসি জানিয়েছে, হাবিব ও ছালাহ উদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজারের রামু থানা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ইয়াবা কারবারে জড়িত। আগে কখনও গ্রেপ্তার হননি তারা। কারণ, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় তারা ইয়াবা বহনের সময় মহাসড়ক এড়িয়ে চলতেন। বিভিন্ন এলাকার ছোটো রাস্তা ব্যবহার করতেন। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলেও গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ওই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। ইয়াবা বহনের সময় তাদের পরনের পোশাকেও গ্রাম্য ছাপ থাকত। যাতে কেউ দেখলেই মনে করেন ক্ষেতখামারে কাজে যাচ্ছেন। তবে কখনও সড়কে উঠলে ছেলে আগের গাড়িতে যেতেন। এরপর রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি চৌকি না থাকলে অপর গাড়িতে বাবাকে আসতে বলতেন। আর তল্লাশি চৌকি থাকলে গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প হিসেবে মহল্লার বা মাঠ দিয়ে আসার কথা বলতেন তিনি।

ডিএনসির ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে শনিবার রাতে গোলাপবাগে ওই অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, সর্বশেষ শনিবারের চালান আনার সময় তারা মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে কক্সবাজার থেকে প্রথমে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি যান। সেখান থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে লোকাল বাসে কয়েক ধাপে ফেনী আসেন। এরপর ছেলে ছালাহ উদ্দিনকে আগে একটি গাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছালাহ উদ্দিন দাউদকান্দি টোল প্লাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ চেক পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার বিষয়ে বাবা হাবিবকে জানিয়ে দেন। ছেলের কাছে নিশ্চিত হওয়ার পর হাবিব বিভিন্ন ছদ্মবেশে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.