আজ মেজ সন্তান দিবস

সিবিটুয়েন্টিফোর নিউজ ডেস্ক: পরিবারের মেজ সন্তানদের বেশি বুদ্ধিমান এবং সফল। শুধু অনুমান নয়, রীতিমতো গবেষণাতেই প্রমাণ হয়েছে বিষয়টি।

ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার একটি অ্যানালাইসিস গ্রুপ এবং ইউনিভার্সিটি অব সিডনির সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় জানা গেছে এ তথ্য। ৫০০০ মানুষের উপর জরিপ চালিয়ে পাওয়া তথ্য মতে, মেজ সন্তানরা ব্যক্তিগত এবং কর্ম জীবনে বেশি সফলতা লাভ করেন।

পরিবারের মেজ সন্তানরা অনেকেই নিজেদেরকে অবহেলিত এবং একা মনে করেন। কিন্তু তারাই বাস্তবে বেশি সফল।

মেজ সন্তানদের বেশি বুদ্ধিমান এবং সফল হওয়ার পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণও আছে। বড় সন্তান অনেক বেশি মনোযোগ পায় বাবা-মায়ের।

আর ছোট সন্তান পায় সহানুভূতি। এর মাঝে টিকে থাকতে হয় মেজ সন্তানের। তাই ছোট বেলা থেকেই তারা বেশি ধৈর্যশীল, সহনশীল ও ডিপ্লোম্যাটিক হয়।
গবেষকরা বলছেন, শুধু সফল নয় বন্ধু হিসেবেও মেজ সন্তানরা দারুণ।

পরিবারে মনোযোগ না পেয়ে বাইরের জগতের প্রতি বেশি আকর্ষণ থাকে তাদের।

টিমওয়ার্ক বা মিলেমিশে কাজ করার বিষয়টি মেজ সন্তান অন্যদের চাইতে বেশ ভালো পারে। বড় সন্তানটি যখন জন্ম নেয়, তখন সব কিছুই তার একার থাকে। কিন্তু মেজ সন্তানের ছোট বেলা থেকেই সব ভাগাভাগি করে নিতে হয়। এরপর ছোট সন্তানের জন্মের পরে তার সঙ্গেও নিজের সবকিছু শেয়ার করতে হয়।
মিলেমিশে থাকার গুনটা তাই মেজ সন্তানের মাঝেই বেশি থাকে যা পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে সফলতা নিয়ে আসে।
গবেষকরা বলছেন, ইগো সমস্যা মেজ সন্তানের মাঝে কম থাকে। পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ার কারণে খুব বেশি মনোযোগ পাননা তারা। আর তাই অহেতুক ইগো বা অভিমান করার সমস্যাগুলো কাটিয়ে নিতে পারেন মেজ সন্তানরা। আর এতেই সফলতা ধরা দেয়।

আজ ১২ আগস্ট, মেজ সন্তান দিবস। ১৯৮৬ সালে এলিজাবেথ ওয়াকার নামের একজন মার্কিনের উদ্যোগে দিনটির চল হয়। মেজ সন্তানও যেন সমান গুরুত্ব, যত্ন ও ভালোবাসা পায়—এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতেই দিবসটির প্রচলন। আপনার পরিবারে যদি মেজ সন্তান, ভাই বা বোন থাকে, তাহলে আজ তার জন্য বিশেষ কোনো আয়োজন করতে পারেন। আজ থেকেই সচেতন হোন। তাদের প্রতিও সমান ভালোবাসা ও মনোযোগ দিন, যাতে মেজ সন্তান হওয়ার ফলে তার মনে জমে থাকা গোপন দুঃখ দূর হয়ে যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.