বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন হবে এবার

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষে ছয়জন খুনির দণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছিল না।

অবশ্য এবার আর পার পাচ্ছে না সেই দস্যুরা। তাদের মুখোশ উন্মোচনে কমিশন গঠনে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, কমিশন গঠনে রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ আইন অচিরেই আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জন্য শোকের দিন। এদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। একদল বিপথগামী সেনা সদস্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটালেও এর পেছনে ষড়যন্ত্র করেছিলেন বহু। তাদের কালো চেহারা জাতি এখনও দেখেনি।

সেই কালো রাতের ঘটনার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে কমিশন গঠনে বিভিন্ন সময় দাবি উঠেছিল। ২০২০ সালে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে এই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেয় আইন মন্ত্রণালয়। এদিকে এটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী রিটও করেন। সেই রিটে রুল বিচারাধীন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, গত বছর একটা সেমিনারে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন- কমিশনের ব্যাপারে সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে। পরবর্তীতে কয়েকদিন আগে তিনি আবার বলছেন, আইন করা হচ্ছে। কীভাবে হবে সেটার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে আইনমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন। আশা করা যাচ্ছে আইনটি অচিরেই আসবে।

২০২১ সালে এ বিষয়ে রিট করেছিলেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। ওই রিটের শুনানি নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রিটের পর সুবীর নন্দী দাস জানিয়েছিলেন, রিট আবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়কদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের নজির যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৯৮২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের গঠিত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও তারপরের পদক্ষেপসমূহ সম্পূর্ণ পর্যালোচনা ও নিরীক্ষার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

গত ১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন গঠনের প্রারম্ভিক কাজ হলো আইন তৈরি করা। এই আইনের ড্রাফট ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে সেটি জাতীয় সংসদে নিয়ে যাওয়া হবে।

আনিসুল হক বলেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়ার জন্য যে কলঙ্কিত চেষ্টা নেওয়া হয়েছিল, যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, তার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল, সেটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানোই হবে কমিশনের উদ্দেশ্য। কমিশনের কাজ প্রতিহিংসামূলক হবে না, ভবিষ্যতে কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.