আজ আপনি নুডলস খেয়েছেন?

আজ কি আপনি নুডলস খেয়েছেন? যদি না খেয়ে থাকেন, তাহলে এখনই ঝটপট বানিয়ে খেয়ে ফেলতেই পারেন। কেননা, আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় নুডলস দিবস। একটা ক্ষুধার্ত পেটকে সন্তুষ্ট করতে গরম গরম এক বাটি নুডলসই যথেষ্ট ।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাশতা হিসেবে নুডলস সগৌরবে নিজেকে দাবি করতেই পারে। একেক সংস্কৃতিতে একেক খাবার সমাদৃত হয়। তবে নুডলস এমন একটি খাবার, যেটি বিশ্বের সব দেশের মানুষই কাঁটাচামচ বা কাঠিতে করে মুখের ভেতর পুরে ফেলে। নানা স্বাদের, আকৃতির নুডলস নানা প্রক্রিয়ায় রান্না হয়। আর এটিই বিশ্বব্যাপী নুডলসের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। সব জাতি তাদের নিজেদের মতো করে সংস্কৃতির অংশ করে নুডলসকে আপন করে নিয়েছে। রামেন, স্প্যাগেটি, পাস্তা, ম্যাকারনি ইত্যাদি নানা নামে যা খাচ্ছেন, সেগুলো আদতে নুডলস ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়!

নুডলস ৪ হাজার বছরের পুরোনো…

 বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো খাবারগুলোর ভেতর নুডলস অন্যতম। খ্রিষ্টের জন্মের ২ হাজার বছর আগে থেকে চীনে নুডলস খাওয়া হয়। তখন আটার দলা ছোট ছোট করে ছিঁড়ে রোদে শুকিয়ে পানিতে ফুটিয়ে খাওয়া হতো। তাই যখন ইতালি আর চীন উভয়েই নিজেদের ‘নুডলসের উৎপত্তিস্থল’ হিসেবে দাবি করে যুদ্ধ চালিয়েছে বছরের পর বছর, খাদ্যগবেষকেরা চীনকেই ভোটে এগিয়ে রেখেছেন। তবে নুডলস এখন যেভাবে খাওয়া হয়, এই রান্নার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ইতালি। সেখানেই নুডলস রান্না নিয়ে ‘সফল’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তুরস্কে যখন থেকে ডামপ্লিং জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে, তখন থেকেই নুডলসও ঢুকে পড়ে তাদের হেঁশেলে। ১২০০ সালে ইউরোপে জনপ্রিয়তা পায় নুডলস। ১৭৮৯ সাল থেকে মার্কিনরা নুডলস আর পাস্তা খাওয়া শুরু করে। ১৯৫৮ সালে জাপানে ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ হিসেবে রামেনের প্রচলন শুরু হয়। খুব অল্প সময়ে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।  নুডলস ‘ন্যাশনাল ফেবারিট’ হওয়ার এক শটা কারণ আছে। আপনি যা কিছু খেতে ভালোবাসেন, সেগুলো দিয়েই নুডলস রান্না করা সম্ভব। ফলে নুডলসকে অগ্রাহ্য করা কঠিন।

কীভাবে এল নুডলস দিবস?

আসলে সব বয়সীর ভেতরে নুডলসের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা, পুষ্টিমান আর স্বাদের কথা বিবেচনা করে নুডলসের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে নুডলস ডে পালনের চিন্তা করছিল। কিন্তু সবাই নানা বিষয়ে একমত হতে পারছিল না। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, বিভিন্ন দেশ প্রতিবছর ৬ অক্টোবর তাদের মতো করে জাতীয় নুডলস দিবস পালন করবে। আর অক্টোবর মাসব্যাপী চলবে ‘নুডলস মাস’।

কীভাবে পালন করবেন নুডলস দিবস?

* প্রতিদিন তো মা বানিয়ে দেয়। আজ নাহয় রেসিপি শুনে বা ইউটিউব দেখে নিজেই মাকে বানিয়ে দিন।

* আজ আপনি এমন একটা নুডলস চেখে দেখতে পারেন, যেটার দিকে আগে কখনো হাত বাড়ানো হয়নি।

* বন্ধুদের দিতে পারেন নুডলস ট্রিট।

* সবাইকে বলুন নুডলস বানিয়ে আনতে। তারপর সেগুলো নিয়ে চলে গেলেন কাছেপিঠে দূরে কোথাও। তারপর ব্যাগ থেকে বাটি-চামচ বের করে সবাই মিলে নুডলস সাবাড় করলেন। নিয়ম বানাতে পারেন, নিজের রান্না করা নুডলস কেউ নিজে খেতে পারবে না! ব্যস, হয়ে গেল নুডলসের চড়ুইভাতি।

* কিছুই যদি না পারেন, অনলাইনে নুডলসের চমকপ্রদ তথ্যগুলো জেনে নিতে পারেন।

* আপনার খাওয়া সেরা নুডলসের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একটা ‘মজাদার’ ফেসবুক স্ট্যাটাসও দিতে পারেন!

Leave A Reply

Your email address will not be published.