কয়েকদিনের মধ্যে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু: ফখরুল

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হতে যাচ্ছে বলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে যুবদল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জীবন দিয়ে লড়াই করছি, পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। আমাদের অনেক ভাই চলে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। আমাদের অনেক মা-বোনের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে; অনেক সন্তান পিতৃহারা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটাই লক্ষ্য-এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করে বিদেশে পাঠানো হবে।

আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকায় জনসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ এক দফা দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হবে।

যুবদলের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা লক্ষ্য করছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি টিম এসেছিলো। এই দলটি কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কোনো প্রতিনিধি দল নয়। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন দল। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই দলের থিংক ট্যাংক। তাদের পাঠানো হয়েছিলো বাংলাদেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আছে কি না এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য বড় কোনো টিম পাঠাবে কি না তা দেখার জন্য। এটাই তাদের উদ্দেশ্য। তারা পাঁচ দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং নির্বাচন কমিশন সবার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা যাওয়ার আগে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা পাঁচটি সুপারিশ করেছেন। সেখানে প্রধান কথা হচ্ছে- সংলাপ।

ফখরুল বলেন, সেটার জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন-আমরা তখনই আলোচনায় বসতে রাজি আছি যখন বিএনপি সমস্ত শর্ত বাদ দিয়ে আলোচনায় আসবে। সবার আগে আওয়ামী লীগের কাছে প্রশ্ন– আপনারা যে সরকারে বসে আছেন, সাংবিধানিকভাবে কি বৈধ? তারা প্রতারনা করে ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে।

তিনি আরও বলন, সংবিধান মেনে নির্বাচনের কথা বলছেন? তাহলে আগে আপনাদের পদত্যাগ করতে হবে। এই সরকার শুধু ভোট চোর নয়, তারা অবৈধ সরকার। সরকারের মুখে রাম নাম মানায় না, ভুতের মুখে রাম নাম মানায় না। সেজন্য বলছি আগে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, এরপর নির্বাচন হবে।

খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছেন, একদিন এরজন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিচারের সাথে জড়িতদের জনগনের আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।

সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, আজকের এই সমাবেশ সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সরকারের আর সময় নেই। কোনো মুরুব্বি নয় বিএনপির সাথে দেশের জনগণ আছে। সরকারকে সরাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আছে। কয়েকদিনের মধ্যে আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে, নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রস্তুত থাকুন।

তিনি বরেণ, বহু অনুনয়-বিনয়, কাকুতি-মিনতি করা হয়েছে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য। অথচ সরকার অনেক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

বিএনপির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, পুলিশ আগেভাগেই নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক লোক ঠিক করছে কারচুপির জন্য। পুলিশ ও আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপিকে দমন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পুরো সপ্তাহ বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালতে হাজিরা দিচ্ছে। ন্যায় বিচার মিলছে না, বিএনপির মুক্তি নেই, এখন রাজপথ দখল । সরকার মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে । আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে। এবার যুদ্ধ হবে, সামনাসামনি এবং গেরিলা কায়দায় যেকোনো উপায়ে হোক মোকাবেলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধান পরিবর্তন করে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা না আনা পর্যন্ত সরকারের সাথে কোনো আপোষ হবে না। বিএনপির আগামী যুদ্ধ প্রতিরোধ করার জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সকলকে সারাদেশে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.